সুরক্ষিত সাইবার জগৎ (উন্নত)

সুরক্ষিত সাইবার জগৎ (উন্নত)

ফেসবুকে কেমন পাসওয়ার্ড দিলে ভালো হয়? কঠিন পাসওয়ার্ড দিলেও কি ফিশিং আর হ্যাকিং থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা যায়?                                                                                                             


      

নবম শ্রেণীতে পড়ে নিশি, সায়মা, মাইশা, সামি এবং শাহানসহ আরো শিক্ষার্থী। স্কুলের আইসিটি শিক্ষক রাকিব হাসান। তিনি ক্লাসে ইন্টারনেটে নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলছেন।


হাসান স্যার: আজ আমি সাইবার নিরাপত্তার আরো কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলবো। সায়মা, বলতে পারো ইমেইল কী?


সায়মা: ইমেইল হলো ডিজিটাল পত্র বা চিঠি। ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে  ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে চিঠি লেনদেন করা হয়। 


হাসান স্যার: ঠিক বলেছো। প্রথমে এখানে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিয়ে তোমাকে ইমেইল একাউন্ট করতে হবে।


সায়মা: পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করবো কীভাবে স্যার?


হাসান স্যার: ছোট ও বড় হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং সিম্বলসহ অন্তত ১২ ডিজিটে পাসওয়ার্ড লিখতে হবে, যার সাথে তোমার ব্যক্তিগত তথ্য বা আচরণ মেলে না, সেটাই হলো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড।


সায়মা: শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের সুবিধা কি স্যার? 


হাসান স্যার: পাসওয়ার্ড শক্তিশালী হলে আমাদের ব্যক্তিগত বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও গোপনীয়তা নিরাপদে থাকে।


মাইশা: স্যার বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আমাদের অনেকবার পাসওর্য়াড দিতে হয়।


হাসান স্যার: শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নয়, সম্ভব হলে টু-ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন চালু করবে। সব অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে প্রতিটির জন্য পৃথক এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবে। ব্যবহার শেষে মেইল বা সামাজিক মাধ্যম লগ আউট করবে। খুব প্রয়োজন না হলে অন্যের ডিভাইসে তোমার মেইল বা সামাজিক মাধ্যমের একাউন্ট ওপেন করবে না।


মাইশা: ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্য নিরাপদে রাখার আর কি কোন কোন উপায় আছে?


হাসান স্যার: শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা যথেষ্ট নয়, সাইবার সুরক্ষার আরো অনেক উপায় আছে।


হাসান স্যার: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোমার ছবি, ভিডিও, ঠিকানা এবং ফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্যগুলো প্রাইভেট সেটিং দিয়ে রাখবে। নিরাপদ স্থানে পাসওর্য়াড লিখে রাখবে।শুধু ইন্টারনেটেই নয়, তোমার মোবাইল, ট্যাব, রাউটার এবং কম্পিউটারেও লক সিস্টেম ব্যবহার করবে। ওয়েবসাইট ও অ্যাপের পাসওয়ার্ড, পিন নম্বর এবং ভেরিফিকেশন নম্বর গোপন রাখবে। 


হাসান স্যার: ফিঙ্গারপ্রিন্ট, বায়েমেট্রিক এগুলো অথবা মোবাইলের মাধ্যমে সিকিউরিটি কী হিসেবে ওয়ানটাইম কোড ব্যবহার করবে। ফিশিং সম্পর্কেও সতর্ক থাকবে।


সামি: ফিশিং মানে তো মাছ ধরা। মাছ ধরার সাথে এর সম্পর্ক কি স্যার?


হাসান স্যার: তুমি ঠিকই ধরেছো ফিশিং মানে মাছ ধরা হলেও অনলাইনের ক্ষেত্রে ফিশিং মানে হলো টোপ ফেলে প্রতারণা করা। 


সামি: কীভাবে এই প্রতারণা করা হয়?

 

হাসান স্যার: মাছ ধরার সময় আমরা টোপ ফেলে মাছকে ধোঁকা দেই, খাবার মনে করে মাছ টোপ খায় আর ধরা পড়ে। অনলাইনে হ্যাকাররা নানা লোভনীয় অফার দিয়ে আমাদের টোপ দেয় আর আমরা না বুঝে সেই টোপে ধরা পড়ি, এটাই ফিশিং। ইমেইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন, ভুয়া নিউজ, লটারি পাওয়ার লোভ দেখিয়ে লিংক আসে। আমরা লোভে পড়ে সেখানে ক্লিক করি। এরপর প্রতারকেরা আমাদের ধোঁকা দিয়ে তাদের  ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়। এরপর তারা আমাদের বিভিন্ন তথ্য চুরি করে নিতে পারে। 


সামি: ফিশিং এর বিপদ থেকে মুক্ত থাকবো কীভাবে স্যার?


হাসান স্যার: কখনো লোভে পড়বে না। অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ইমেইলে পাঠানো লিংক যাচাই না করে ওপেন করবে না। নিরাপদ কিনা যাচাই না করে কোনো ওয়েবসাইটের ভিজিট রিকোয়েস্ট, অ্যাড রিকোয়েস্ট গ্রহণ এবং অনিরাপদ জরিপে অংশ নেবে না। আর একটা কথা, কোনো ওয়েবসাইট যদি অপ্রয়োজনে ব্যক্তিগত ও অর্থ সম্পর্কিত তথ্য চায় তাহলে দ্রুত সেই ওয়েবসাইট ত্যাগ করবে। অপ্রয়োজনে বৈধ প্রতিষ্ঠানও এসব তথ্য জানতে চাইবে না।


সামি: ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকবো কীভাবে স্যার?


হাসান স্যার: নিষিদ্ধ, অনিরাপদ এবং নকল ওয়েবসাইটে প্রবেশ না করলে ভাইরাস মুক্ত থাকতে পারবে। এন্টি-ভাইরাস ব্যবহার করলে আমরা ভাইরাস, ম্যালওয়্যার এবং অন্যান্য অনলাইন হুমকি থেকে নিরাপদে থাকবো। এছাড়া ফায়ারওয়াল, ব্রাউজার যদি কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে নিষেধ করে তাহলে সেখানে যাবে না। 


সামি: আর অন্য কোনো ভাবে কি ভাইরাস আসার সম্ভাবনা আছে?


হাসান স্যার: অন্যের পেন ড্রাইভ, স্মার্টফোন, গেমিং সিস্টেম, হার্ডডিস্ক তোমার কম্পিউটারে যুক্ত করে সেগুলো স্ক্যান করে নেবে নইলে এর মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। অপারেটিং সিস্টেম এবং বৈধ সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করবে, নিষিদ্ধ, অবৈধ এবং পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করবে না। এতে তোমার তথ্য ও গোপনীয়তা নিরাপদে থাকবে।


সামি: আমরা প্রায় হ্যাকিং এবং হ্যাকার সম্পর্কে শুনি। বিষয়টা সম্পর্কে একটু বলুন স্যার।


হাসান স্যার: কেউ যদি কারো কম্পিউটারে অনুপ্রবেশ করে তথ্য চুরি করে বা ক্ষতি করে তাকে হ্যাকিং বলে। যে ব্যক্তি চুরি করে তাকে হ্যাকার বলে।

 

শাহান: হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকবো কীভাবে?


হাসান স্যার: সতর্কতা আগের মতোই। নিষিদ্ধ, অবৈধ, অনিরাপদ সাইটে যাবে না। সম্ভব হলে এন্টি ভাইরাস ব্যবহার করবে। কখনো লোভে পড়বে না।


শাহান: অনেক সময় বিভিন্ন সাইটে আমাদের তথ্য চাওয়া হয়, এক্ষেত্রে কী করবো?


হাসান স্যার: কখনোই ব্যক্তিগত তথ্য বিশেষ করে অর্থ সংক্রান্ত তথ্য অনিরাপদ ওয়েবসাইটে শেয়ার করবে না। অনেক অ্যাপ, সফটওয়্যার ও ওয়েবসাইট অপ্রয়োজনীয় তথ্য চায়। অনেক অ্যাপ গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে। এসব অ্যাপ ও ওয়েবসাইট থেকে সাবধান থাকতে হবে। অ্যাপ ইন্সটল করার সময় শর্তগুলো পড়ে তবেই সম্মতি দিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় তথ্য চাইলে সেই সাইট ত্যাগ করতে হবে।


চেষ্টা করবে ফ্রি ওয়াইফাই না ব্যবহার করতে। এর মাধ্যমে হ্যাকাররা তোমার তথ্য চুরি করে নিতে পারে। নকল ওয়েবসাইট, ভুয়া নিউজ, গুজব, প্রপাগান্ডা চেনার চেষ্টা করবে। এসব শেয়ার করবে না, লাইক দেবে না। 


সায়মা: যদি কখনো সাইবার অপরাধের শিকার হই, তাহলে কী করবো?


হাসান স্যার: সাইবার অপরাধ সংঘটিত হলে অভিভাবক বা নিকটস্থ থানায় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংক্রান্ত শাখার কর্মকর্তাদের জানাতে হবে।


শাহান: প্রযুক্তিগত বিপদ ছাড়া আর কি অন্য কোনো বিপদ আছে স্যার?


হাসান স্যার: হ্যাঁ আছে। ভুয়া নিউজ, গুজব, প্রপাগান্ডা এবং অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচার প্রচারণা থেকে মুক্ত সাবধান থাকবে।


শাহান: একটু বুঝিয়ে বলুন স্যার।


হাসান স্যার: অনেক সময় ধর্ম আক্রান্ত হয়েছে বলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার চালানো হয়। এতে বিভ্রান্ত হয়ে ধর্মপ্রাণ তরুণেরা সন্ত্রাবাদী সংগঠনে যুক্ত হয়। ধর্মীয় রাষ্ট্র বা খিলাফত প্রতিষ্ঠার কথা বলে ধর্মপ্রাণ তরুণদের প্রভাবিত করে সহিংস উগ্রবাদী কাজে যুক্ত করে। সোশ্যাল মিডিয়ার অসংখ্য গল্প, পেইজ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সহিংস উগ্রবাদী চিন্তাধারার জাল ছড়িয়ে আছে, তোমাদের এসব থেকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক উগ্রবাদী সংগঠন ধর্মের কথা বলে তরুণদের বিপথে চালিত করতে পারে। তাদের অবৈধ, বেআইনি, সন্ত্রাসবাদী কাজে যুক্ত করতে পারে। ইন্টারনেটে এই ধরনের বিপদগুলো তোমাদের চিনতে হবে, তাহলে তোমরা বিপদমুক্ত থাকতে পারবে।  ইন্টারনেটে নিরাপত্তার সাথে এগুলো যুক্ত। 


সামি: স্যার এতো কিছু মনে রাখা তো কঠিন।


হাসান স্যার: শুধু একটা কথা মনে রেখো 'সন্দেহ হলেই বাদ'। কোন লিংক, ওয়েবসাইট, মেইল যদি সন্দেহজনক বলে মনে হয় তাহলে বাদ দেবে। এতেই তোমরা ইন্টারনেটে নিরাপদে বিচরণ করতে পারবে।

রাউন্ড ০২ সুরক্ষিত সাইবার জগৎ (উন্নত)

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ছবি, ভিডিও, ঠিকানা এবং ফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা যাবে না। সন্দেহজনক ইমেইল, মেসেজ ...

জানার আছে অনেক কিছু

সুরক্ষিত সাইবার জগৎ (প্রাথমিক)
সুরক্ষিত সাইবার জগৎ (প্রাথমিক)

ডোমেইন নেইম আর ইউ আর এল দিয়ে কি নিরাপদ ওয়েবসাইট চেনা যায়? নাকি আরো কিছু জিনিস ...

আরও পড়ো
ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি
ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি

নিশি আর এখন যেখানে সেখানে লাইক দেয় না, যার তার পোস্ট শেয়ার করে না। তার এই ...

আরও পড়ো
সুরক্ষিত সাইবার জগৎ